জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই

54

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কফি আনান মারা গেছেন। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে মহান এই ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘কফি আনান ফাউন্ডেশন’।

সারা বিশ্ব থেকে তাঁর প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কফি আনানের পরিবার এবং তাঁর ফাউন্ডেশন দুঃখের সঙ্গে ঘোষণা করছে যে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব এবং শান্তিতে নোবেল বিজয়ী কফি আনান সামান্য অসুস্থতা থেকে চিরবিদায় নিলেন। আনানের স্ত্রী নানে এবং তাঁর সন্তান আমা, কোজো এবং নিনা শেষ দিনগুলোতে তাঁর পাশেই ছিলেন।’

জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই কূটনীতিকের জন্ম ১৯৩৮ সালে; আফ্রিকার দেশ ঘানায়। ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন তিনি।

কফি আনান থাকতেন সুইজারল্যান্ডে। পেশাদার এই কূটনীতিক ঠাণ্ডা মাথায় কিছু চিন্তা করা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশ্বসম্প্রদায়কে জাগ্রত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন। আফ্রিকার উপসাহারা অঞ্চল থেকে প্রথম মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত আনান ইরাক যুদ্ধের সংঘাতময় বছরগুলোতে জাতিসংঘকে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তী সময়ে ‘তেলের বিনিময়ে খাদ্য’ কেলেঙ্কারির জন্য অভিযুক্ত হন; যা ছিল তাঁর মেয়াদকালের সবচেয়ে কঠিন সময়।

সুইচ নিউজ এজেন্সি এটিএসের তথ্য মতে, আনান সুইজারল্যান্ডের জার্মান ভাষাভাষী অংশের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর পূর্বসূরি সম্পর্কে বলেন, ‘আমার পথপ্রদর্শক চিরদিনের জন্য চলে গেলেন। অনেক কারণেই বলা যায়, কফি আনানই ছিলেন আমার কাছে জাতিসংঘ। অতুলনীয় উৎকর্ষ এবং প্রত্যয় নিয়ে নতুন সহস্রাব্দের পথে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি নিজেকে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেকের মতো আমিও কফি আনানকে একজন ভালো বন্ধু এবং পথপ্রদর্শক বলতে পেরে গর্বিত ছিলাম।’

আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে কফি আনানই প্রথম জাতিসংঘের মহাসচিব হয়েছিলেন। এই দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সিরিয়া বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেন। তাঁর নেতৃত্বেই আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ায় সাড়ে সাত বছরের গৃহযুদ্ধের ইতি টানার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ২০০১ সালে নোবেল পুরস্কারজয়ী কফি আনান মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়েও কাজ করছিলেন।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মৃত্যুতে ঘানার রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদদো গতকাল শনিবার এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন। এই মহান ব্যক্তিত্বের সম্মানার্থে ঘানা এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ঘানার কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এক সপ্তাহ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

মহান এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা শোক জানিয়েছেন।

এদিকে কফি আনানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশের নোবেল শান্তিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন আশার বার্তা, মঙ্গল সাধনের শক্তি ও স্বপ্নদ্রষ্টা নেতা।’ কফি আনানের সঙ্গে কয়েক দশকে অনেক বৈঠক করার স্মৃতিচারণা করে ইউনূস বলেন, মানবাধিকার ও দারিদ্র্য দূরীকরণে তাঁর প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকার ছিল এক দৃষ্টান্ত।